‘ঝগড়া করা ভালো নয়, তবু যদি ঝগড়া হয়,
ঝগড়া শেষে একটু হেসে হাত মেলাব কাছে এসে…’

বাচ্চাদের একটা বইয়ে পড়েছিলাম এ রকম একটি ছড়া। মনে করুন, ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে তুমুল ঝগড়া হলো। ঝগড়া শেষে দুজন দুদিকে চলে গেল। গন্তব্যে পৌঁছাতে পৌঁছাতে আপনি বুঝে গেলেন ভুলটা আসলে আপনারই ছিল। দেরি না করে ফোন করুন। নির্দ্বিধায় বলুন সরি। ফোন করতে যদি অস্বস্তি হয়, তাহলে বার্তা পাঠান। লিখুন, আপনি আপনার ভুল বুঝতে পেরেছেন। এতে কোনো ছোট হওয়ার ব্যাপার নেই।
মনের মানুষের সঙ্গে মনোমালিন্য হতেই পারে

মনের মানুষের সঙ্গে মনোমালিন্য হতেই পারে। এই যেমন দেখুন, শুঘ্রীর সঙ্গে অনিকের সম্পর্কের বয়স পাঁচ বছর। সেই সম্পর্কের স্বাদ-টক-ঝাল মিষ্টি সমস্তই। শুঘ্রী জানান, তাঁদের এটা–ওটা নিয়ে টুকটাক লেগেই থাকে। তবে সেটা সমাধান না করে কেউই ঘুমাতে যান না। যাতে নতুন দিনের শুরুতে পুরোনো কোনো তেতো স্বাদ মনের কোণে মলিন হয়ে পড়ে না থাকে। বললেন, ‘মনোমালিন্য তো যেকোনো মানুষের সঙ্গেই হয়। দুটো আলাদা মন, সব সময় এক হবে না, সেটাই স্বাভাবিক। তবে আমরা কখনো নিজেদের সমস্যার জন্য কোনো তৃতীয় পক্ষকে আমদানি করিনি। নিজেরাই সমাধান করেছি। খাবার সময়ে নিজেদের ‘কোয়ালিটি টাইম’–এর কথা ভেবেছি। মাথার ভেতরে ঢুকে পড়ে খানিকটা সুখস্মৃতি নেড়েচেড়ে দেখলেই দেখা যায়, মন্দ সেখানে আর টিকতে পারে না। মনে হয়, কত ভালো সময় কাটিয়েছি, সেসবের তুলনায় এ তো সামান্যই।’

সম্পর্ক যখন ‘টেকেন ফর গ্রান্টেড’ নেওয়া হয়ে যায়, তখনি সমস্যার শুরু। যেকোনো সম্পর্কের যত্ন নেওয়া জরুরি। যেমন ঘরের সবচেয়ে দামি বস্তুটির যত্ন নেওয়া জরুরি, তেমনি মনের সবচেয়ে দামি মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের যত্নটাও জরুরি। একটা ছোট চারার মতো, যত্ন নিলে যে বৃক্ষ হয়ে ওঠে। আর যত্নের অভাবে যার আর বৃক্ষ হয়ে ওঠা হয় না। এই আন্তরিকতা দুই পক্ষ থেকেই সমান জরুরি। ‘কমপ্রোমাইজ’ কোনো সমাধান নয়। কেননা, এই একটা শব্দ, যার শেষ কোথায় কেউ জানে না। আপনি কমপ্রোমাইজ করলেন। তাতে আপনার সেখান থেকে আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকার ‘এক্সপেকটেশন’ কিন্তু বাড়তেই থাকবে। সেটা কোথায় গিয়ে কীভাবে বিস্ফোরিত হবে, কেউ জানে না।

‘এক্সপেকটেশন’ সম্পর্কে আরেকটা শব্দ, যেটি একটা সম্পর্কের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে কি এক্সপেকটেশন রাখবেন না? অবশ্যই রাখবেন। মনের মানুষের কাছ থেকে কী এক্সপেক্ট করেন, সেটি নির্দিষ্ট করে জানা খুবই জরুরি। নতুবা অপর পক্ষ যা–ই করুক না কেন, সেটি আপনার কাছে যথেষ্ট মনে হবে না। যেমন অফিসের বস আপনার কাছ থেকে কী চাচ্ছেন, সেটি জানা জরুরি। যদি তিনি সেটি না জানেন, আপনি যত যা কিছুই করেন না কেন, সেটি তার কাছে যথেষ্ট মনে হবে না।

আজকাল মিলেনিয়াল রিলেশনশিপে কারও যেন সময় নেই। সবারই কেবল তাড়াহুড়ো আর তাড়াহুড়ো। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বহু আগে যেমনটি বলে গিয়েছিলেন, ‘সময়ের সমুদ্রে আছি, কিন্তু একমুহূর্ত সময় নেই’। এই কথা এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও বেশি সত্যি। স্ক্রলিংয়ের যুগে ‘অ্যাটেনশন স্প্যান’ কমছে তো কমছেই। এক মানুষকে বেশি দিন ভালো লাগে না…কত অপশন। কোনো অপশনেই যেন মন টেকে না। এমন সময় অপর পক্ষের কথা মন দিয়ে শুনুন। শুনুন, শুনুন, শোনা প্র্যাকটিস করুন। এর কোনো বিকল্প নেই। শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে কোথাও গিয়ে দুজনে মিলে কান পাতুন নৈঃশব্দ্যে।

মোদ্দা কথা হলো, সম্পর্ককে ‘টেকেন ফর গ্র্যান্টেড’ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এক দিনের জন্যও না। ‘কোয়ালিটি সময়’ কাটান। নিজেদের সম্পর্কের মাঝে তৃতীয় পক্ষ নয়। ভালোবাসা প্রকাশ করুন। ছোট ছোট অনুভূতির কথা বলুন। ছোট ছোট উপহার দিন। মনে রাখবেন, ছোট কোনো কিছুই ছোট নয়।